1. md.alisiddiki@gmail.com : Ali Siddiki : Ali Siddiki
  2. jinnatiris@gmail.com : Jinnat Ara : Jinnat Ara
  3. azizul.basir@gmail.com : Azizul Basir : Azizul Basir
  4. mdriyadhasan700@gmail.com : Riyad Hasan : Riyad Hasan
  5. shawontanzib@gmail.com : Shawon Tanzib : Shawon Tanzib
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

অল্প খরচে প্রয়োজন মেটাচ্ছে ‘রিসাইকেল বিন’

প্রচ্ছদ সংবাদ সংগ্রহকারী
  • হালনাগাদ সময় রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৬ প্রদর্শিত সময়
sdnewsbd.com
sdnewsbd.com

পিসি বা ল্যাপটপে কোনও তথ্য ডিলিট করলে তা জমা হয় রিসাইকেল বিনে। এটা হলো মুছে ফেলা তথ্যের ভাগাড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এরকম রিসাইকেল বিন গ্রুপ বা পেজ রয়েছে, যেখানে মুছে ফেলা কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। বরং পাওয়া যায় লোকজনের ব্যবহৃত পোশাক, আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রিক আইটেম, গ্যাজেটস, মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট ইত্যাদি। অনেক সময় নতুন পণ্যও পাওয়া— যা ব্যবহার করা হয়নি, বহুদিন ধরে ঘরে পড়ে আছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আছে— এমন সব পণ্যও পাওয়া যায় রিসাইকেল বিনে। এক কথায় বলা যায়, কী নেই রিসাইকেল বিনে!

যার অনেক আছে বা প্রয়োজন নেই এমন জিনিসে ঘর ভর্তি, অথচ বিক্রি করে দিলে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। আবার এই পণ্য যিনি কিনবেন তারও সাশ্রয় হবে— এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম হলো রিসাইকেল বিল। ফেসবুক ঘেঁটে অন্তত এ রকম ৬টি রিসাইকেল বিনের খোঁজ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সংখ্যা আরও বেশি। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলাভিত্তিক রিসাইকেল বিন গ্রুপ বা পেজের খোঁজ পাওয়া গেছে।

একই নাম, একই প্ল্যাটফর্ম, আবার সবার উদ্দেশ্যও প্রায় একই— পুরনো জিনিস বিক্রি। যাদের সামর্থ্য আছে তারাও যেমন এখান থেকে জিনিসপত্র কিনছেন, আবার যাদের নেই, তারাও। অনেকের হঠাৎ টাকার প্রয়োজন, তার অনেক ড্রেস আছে, বা পুরনো সোফা বা ফ্রিজ বিক্রি করে দিয়ে নতুন কিনতে চান, তিনিও এই প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করে কিছু আয় করতে পারেন। আবার যার হাতে অল্প টাকা আছে কিন্তু তার ফ্রিজ বা সোফা কেনা প্রয়োজন, তিনিও তার বাজেটের মধ্যে এখান থেকে কিনতে পারছেন। অনেকের কাছে নতুন পাঞ্জাবি আছে, যা সাইজের কারণে পরা হয় না বা একাধিক মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট রয়েছে, যার সবগুলোর প্রয়োজন নেই। তিনিও রিসাইকেল বিনে গিয়ে বিক্রি করে দিতে পারেন। আর এই কেনাবেচার মধ্য দিয়েই জনপ্রিয়তা পেয়েছে রিসাইকেল বিন।

কী আছে রিসাইকেল বিনে

রিসাইকেল বিন ঘেঁটে দেখা গেলো, স্বল্প ব্যবহৃত বা ব্যবহৃত কিংবা ঘরে পড়ে থাকা মোবাইল ফোন, ট্যাব, টেবিল, জামা কাপড়, এসি, শোকেস, ডায়েরি, সেলফি স্টিক, ফুলদানি, ট্রলি, ক্যামেরা, আইফোন, রিস্ট ব্যান্ড, বইয়ের তাক, হেডফোন, রাউটার, সোফা, রাইস কুকার, বাচ্চাদের কাপড়চোপড়, সেলাই মেশিন, বাসন-কোসন, বিয়ের শাড়ি, ক্রোকারিজ ইত্যাদি বিক্রির জন্য পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিক্রির তালিকায় আরও পাওয়া রয়েছে— ফ্রিজ, জুতা স্যান্ডেল, শার্ট, মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, ফুলের টব, রুম হিটার, বাচ্চাদের পড়ার টেবিল, হিজাব, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, পার্স, ওয়ার্ডরোব, মোবাইল ভ্যান, জুয়েলারি, ফার্নিচার, টেবিল ফ্যান, মেকআপ বক্স ইত্যাদি।

নাম এক হলেও রিসাইকেল বিনগুলোর সদস্য সংখ্যা আর হোম পেজ দেখে কেবল আলাদা করা যায়। এমনই একটা রিসাইকেল বিনের সদস্য সংখ্যা সাড়ে ৮৩ হাজার। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন সাদিয়া শাহনেওয়াজ জানান, তিনি ২০১৮ সালের দিকে এটি শুরু করেছেন। সেসময় লোকজন এ বিষয়ে তত অ্যাক্টিভ ছিল না। যারা এ বিষয়টা নিয়ে জানে তারাই এটাতে সক্রিয় ছিল। পরিবর্তীতে এটার প্রসার হয়েছে এবং সদস্য সংখ্যাও বেড়েছে। তবে একই নামের আরও কয়েকটি ‘রিসাইকেল বিন’ থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ কনিফিউজড হয়ে যায় এতগুলো রিসাইকেল বিন দেখে। আমরা আমাদের সেবা দিয়ে সেই কনফিউশন দূর করার চেষ্টা করছি।’

সাদিয়া এটাকে সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন। আর্থিক কোনও বিষয় এটাতে কখনও সম্পৃক্ত হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। পেশায় ব্যাংকার সাদিয়া শাহনেওয়াজ বলেন, ‘মেয়েরা কোনও ড্রেস কিনে একবার পরে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করলে, পরে আর সেটা পরতে চায় না। এভাবে অনেক কাপড় জমে যায়— যা কাউকে দিয়ে দিতে পারে না, বা বিক্রিও করতে পারে না। এটা এক ধরনের সমস্যা। এই প্ল্যাটফর্ম সেই সমস্যা দূর করেছে। যাদের যেটা দরকার নেই, তারা সেটা এখানে বিক্রি করে দিতে পারে। আবার যার যেটা প্রয়োজন সে তা সাশ্রয়ী মূল্যে কিনে নিতে পারে। এক পক্ষের প্রয়োজন মিটলো, আবার অন্যপক্ষের কিছু আয়ও হলো।’

তিনি জানান, অনেকের বেশি বেশি কাপড় চোপড় থাকে, থাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্যান্য জিনিসিপত্র। এমন অনেক মানুষ আছে যারা নিডি ও শিক্ষার্থী। নতুন কিছু কিনতে পারে না। তাদের কথা ভেবেই আসলে আইডিয়াটা মাথায় আসে। তিনি ছাড়াও তার গ্রুপের আরেকজন অ্যাডমিন হলেন মো. সিয়াম হোসেন। এছাড়া তার এক কাজিন মডারেটর হিসেবে রয়েছেন। পেশাগত কাজের বাইরে যে সময়টুকু পান, সেটা তিনি রিসাইকেল বিনের পেছনে ব্যয় করেন। জানা গেছে, তার গ্রুপে রোজ ১৫-২০টি পোস্ট পড়ে। কিন্তু শর্ত না মানায় সবগুলো অনুমোদন পায় না। যারা শর্ত মেনে পোস্ট দেন তাদেরগুলো অনুমোদন পায়। তার গ্রুপে প্রতিদিন অন্তত ১৫ জন নতুন সদস্য যুক্ত হন।

আরেকটি রিসাইকেল বিনের প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন সুমন ইসলাম আকাশ পেশায় শৌখিন আলোকচিত্রী। একটি জাতীয় দৈনিকের বিনোদন বিভাগের জন্য শখের ছবি তোলেন। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন রিসাইকেল বিন। এক বছর বয়সী এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১৮ হাজারের কিছু বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা ইদানিং প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। প্রতিদিন ২৫০ জনের বেশি নতুন সদস্য যুক্ত হচ্ছে গ্রুপে। প্রতিদিন অন্তত ১৫-২৫টা পোস্ট গ্রুপে শেয়ার হচ্ছে। যদিও জমা পড়ে আরও অনেক বেশি। কিন্তু সব অনুমোদন দেওয়া যায় না।’

তিনি জানান, আমাদের শর্ত হচ্ছে যা বিক্রির জন্য গ্রুপে পোস্ট করা হবে, তা অবশ্যই ব্যবহৃত হতে হবে এবং তার কেনাদাম ও বিক্রির দাম উল্লেখ করতে হবে। কোনও পেজের লিংক বা লাইভ শেয়ার করা যাবে না। অনেকে এগুলো মানতে চান না। ফলে অ্যাপ্রুভ করা যায় না সব। সুমন ইসলাম আকাশ জানান, তিনি একাই এর উদ্যোক্তা। মডারেটর আছে ৭ জন। তিনি কোনও ধরনের আর্থিক সংশ্লিষ্টতায় না গিয়ে সমাজের মানুষকে সেবা করতে চান।

সোশ্যাল আইডিতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরও খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত এসডিনিউজবিডি.কম
Theme Designed | Net Peon Bangladesh
themesbazarsdnw787
error: নকল হইতে সাবধান !!